আপনারা সকাল থেকেই হয়তো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, খবরের কাগজ এবং নিউজ চ্যানেল শুনছেন যে দুবাইতে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। যেখানেতে রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে দুবাইতে ভারী বৃষ্টি। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত দুবছরে যে পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে, সেই সমপরিমাণ বৃষ্টিই ২৪ ঘন্টায় হয়ে গিয়েছে। 

Photo by Collab Media from pexels.com

তাহলে আপনি ভাবুন যে এত পরিমাণ বৃষ্টি এই অল্প সময়ের মধ্যে যদি কোন এক জায়গায় হয়ে যায় তাহলে ওই জায়গার পরিস্থিতি কি রকম হতে পারে। যার জন্য একেবারে চারিদিক জলে জলময় হয়ে গিয়েছে। 

আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন, যেকোনো শহর বা এলাকাকে সেখানকার আবহাওয়ার অপরে ডিপেন্ড করে তৈরি করা হয়। তাই দুবাই যেহেতু এই ধরনের আবহাওয়া কোন বছরই বিরাজ করে না, তাই সেই অনুপাতে এখানকে বানানোও হয় না। এইজন্য অতি দৃষ্টির কারণেই জল নিকাশী হতে না পারায় বন্যার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়। 

আপনাদের জানকারীর উদ্দেশ্যে বলে দেই, কিছুদিন আগেই দুবাইয়ের এয়ারপোর্টকে বিশ্বের দ্বিতীয় তম ব্যস্ত এয়ারপোর্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেখানে এত পরিমানে মানুষের ভিড় হয় সেইখানেতে ওই বন্যার মত পরিস্থিতিতে পুরো এয়ারপোর্ট জলমগ্ন হয়ে যাওয়ার কারণে সেখানেতে জনশূন্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। 

দুবাই থেকে যে সমস্ত বিমান গুলি যাওয়ার কথা ছিল সেগুলি কেউ ক্যানসেল করে দেওয়া হয়েছিল। এবং অন্যান্য এয়ারপোর্ট থেকে দুবাই এয়ারপোর্টে যে সমস্ত প্লেনগুলো আসছিল সেগুলিকেউ মাঝ রাস্তায় অন্যান্য এয়ারপোর্টে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ এত পরিমানের জল ছিল যে, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্লেনগুলোকে দেখলে মনে হয় যেন প্লেনগুলি কোমর ডুবিয়ে বসে রয়েছে।

রোডের কথা যদি বলা যায়, দুবাইয়ের রোডগুলি ও তার আশেপাশে জল এত পরিমানে দাঁড়িয়েছিল যেখানে গাড়ি গুলোকে দেখলে মনে হচ্ছে গাড়িগুলো যেন ছাতি গলা ডুবিয়ে বসে রয়েছে। গাড়িতে থাকা বেশিরভাগ মানুষই গাড়ি ছেড়ে দিয়ে উঁচু কোন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল।

 দুবাইয়ের আবহাওয়া দপ্তরের মত অনুযায়ী যেখানে প্রতিবছর গড়ে ৩.৩ ইঞ্চির মতো বৃষ্টি হয়, সেখানে কত ২৪ ঘন্টাতেই ৬.৫ ইঞ্চির মতো বৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল অর্থাৎ হাফ ফুটের বেশি। এমনকি আবহাওয়া দপ্তর আরো জানাই যে, দুবাইয়ে ৯০% এর বেশি বৃষ্টি নভেম্বর ও মার্চ মাসে হয়ে থাকে এবং এপ্রিল মাসে বৃষ্টি হয় না বললেই চলে।

এই অতি বৃষ্টির মূল কারণ হচ্ছে আরব সাগরে সৃষ্টি ঝড় এবং নিম্নচাপ। এই ঝড় এবং নিম্নচাপের প্রভাব শুধুমাত্র দুবাইয়ের উপরে পড়েনি। এর প্রভাব পড়েছিল ওমান, বাহারিন, কাতার দেশের উপর। যেখানে নিম্নচাপটি আরব সাগর থেকে উথিত হয়ে ওমানের উপর দিয়ে UAE, কাতার, বাহারিন দেশ বলে কেউ প্রভাবিত করেছিল। যার কারণে ওই সমস্ত দেশগুলিতেও বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রকোপ দেখা গিয়েছিল। 

যাইহোক দুবায়েতে এত বৃষ্টির কারণ হিসেবে ক্লাউড সিডিং কেও অনেকে দায়ী করেছেন। ক্লাউড সিডিং হচ্ছে এমন একটি কৃত্রিম পদ্ধতি যেখানে কৃত্তিমভাবে বাতাসে কিছু উপাদান যেমন সিলভার আয়োডাইড, পটাশিয়াম আয়োডাইডকে ছাড়া হয়। একচুয়ালি এগুলি বাতাসে আগে থেকেই থাকে কিন্তু এত ক্ষুদ্র পরিমাণে থাকে যা বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না, তাই ওই সমস্ত উপাদানগুলিকে বাতাসে ছাড়লে এগুলি বাতাসে আগে থেকে থাকা ওই উপাদান গুলির সংস্পর্শে এসে বড় এবং ভারী হয়, যা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

ক্লাউড সিডিং এর জন্য খুবই ধীর গতি সম্পন্ন এয়ার ক্র্যাফটের প্রয়োজন হয়। কারণ খুব ধীরে ধীরে বাতাসেতে এগুলিকে ছাড়তে হয় এবং মেঘ যে থাকে তার নিচে এগুলিকে ধীরে ধীরে ছাড়তে হয়। যার ফলে ওগুলি বাতাসে উপরে মেঘের সংস্পর্শে আসে। আর যদি মেঘের ওপরে ছাড়া হয় তাহলে মেয়েদের সঙ্গে কোন সংস্পর্শে আসবে না। যার ফলে ক্লাউড সিডিং বিফল হবে।

দুবাইয়ের প্রচুর পরিমাণে গরম অনুভব হওয়ার কারণে ক্লাউড সিডিং বারবার করা হয়েছিল। হালকা বৃষ্টি হলে সেখানকার মানুষ একটু গরম থেকে নিকৃতি পাবে। কিন্তু এতটা পরিমাণে যে বৃষ্টি হবে তা কোন ভাবেই দুবাইয়ের আবহাওয়া দপ্তর অনুভবই করতে পারেনি।

তাই আমাদের কেউ এই সমস্ত বিষয়ে শিক্ষা নেওয়া দরকার। প্রকৃতির সঙ্গে বেশি খেলা করা চলবে না। প্রকৃতি অনেক সময় মানুষকে শিক্ষা দিয়ে চলে যায়, কিন্তু মানুষ শিক্ষা নিয়েও তা ভুলে যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন কি বন্ধ করার জন্য আমাদেরকে বেশি পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে সেই সঙ্গে প্রকৃতির রক্ষণাবেক্ষণ ও করতে হবে। নাহলে ভবিষ্যৎ  ধ্বংসের মুখে এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *