GPAI অর্থাৎ global partnership on artificial intelligence, এর প্রথম অধিবেশন ২০২০ তে হয়েছিল। বর্তমানে এর চতুর্থ অধিবেশন ভারতের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। GPAI চতুর্থ অধিবেশন ভারতের নিউ দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি এর তত্ত্বাবধানে ছিল। এতে ২৮ টি দেশ উপস্থিত ছিল, এবং ভারতকে নিয়ে মোট ২৯ টি দেশ এই অধিবেশনের অংশ ছিল।

Photo by Pexels.com

এর আগে আপনারা জানেন ভারতে G২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবং প্রায় অনেকেই ভেবেছিল যে এই সম্মেলন সঠিকভাবে সম্পূর্ণ হবে না, কারণ একদিকে রাশিয়া ছিল এবং অন্যান্য দিকে পশ্চিমা দেশগুলি ছিল, তাই হয়তো সকলের সহমতি নাও পাওয়া যেতে পারে, যার কারণে এই G২০ সম্মেলন হয়তো অসফল হতে পারে। কিন্তু G২০ সম্মেলনে উপস্থিত সকল দেশই সহমত জ্ঞাপন করেছিল। এবং G২০ সম্মেলনটি সফল হয়েছিল।

বিশেষত, GPAI এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা। কারণ কিছু সময় থেকে আপনারা দেখে আসছেন বিভিন্ন ধরনের ডিপ ফেক ফটো এবং ভিডিও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হচ্ছে। তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার যেন সঠিক কাজে হয়, এবং এর অপব্যবহার যেন রোধ করা যায় তার জন্যই এই GPAI সম্মেলন।

IT মিনিস্টার Ashwini  Vaishnaw বলেছেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিকাশ নিয়ে বিশ্ব কি ভাবছে, মানুষ কিভাবে এর বেনিফিট পেতে পারে, সেই সঙ্গে এর কি খাতরা বা অসুবিধা রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদেরকে বুঝতে হবে। তাহলে আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সঠিক ব্যবহার করতে পারব। তাই আমাদেরকে সকলকেই এই GPAI সম্মেলনে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে, এবং সকলকে নেগোশিয়েট করার চেষ্টা করতে হবে।

অন্যান্য দেশ সহ ভারতও GPAI এর ফাউন্ডার মেম্বার। এবং ২০২০ সালের জুন মাসে GPAI এর প্রথম যে সম্মেলন হয়েছিল, তাতেও ভারত যোগদান করেছিল।

GPAI কি

এতদিন পর্যন্ত মানুষ জানত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শুধুমাত্র মানুষের উপকারের জন্যই ব্যবহার করা হয়। এর দ্বারা মানুষের ক্ষতি হবে না, এর দ্বারা মানুষের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে, এর দ্বারা যে কোন বই সহজেই তৈরি করা যাবে, শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন নিয়ে আসা যাবে। তবে বাস্তবে থিওরিতে যা মনে হয় তা কিন্তু প্র্যাকটিক্যালে এমনটা নয়। যখন এর প্রয়োগের দিক দেখা গেল তখন এর খারাপ দিকগুলিও মানুষের সামনে উঠে আসলো। যেমনটা আগেই বলেছি ডিপ ফেক ফটো বা ভিডিও। তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যে কমতি বা ক্ষতিকারক দিকগুলি রয়েছে সেগুলি সম্পর্কে নিজেদের নিজেদের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সমাধান উপায় খুঁজে পাওয়ার জন্যই এই GPAI সম্মেলন।

এখানেতে ২৯ টি দেশের মেম্বার সহ বৈজ্ঞানিক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ষেত্র, সিভিল সোসাইটি এবং অন্যান্য ওরগানাইজেশন থেকে ব্যক্তিদেরকেও ইনভাইট করা হয়েছিল।

GPAI প্রথম সম্মেলন

এই প্রথম সম্মেলন ২০২০ তে মন্ট্রিয়লে হয়েছিল। এই সম্মেলনের মূল আলোচনার বিষয় ছিল, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যবহার নিয়ে।

এর দ্বিতীয় সম্মেলন

এই দ্বিতীয় সম্মেলন ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সম্মেলনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে, জলবায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলিতে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেই সম্পর্কে আলোচনা। এবং জলবায়ু পরিবর্তনের যে মূল কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন, সেটিকে কিভাবে রোধ করা যায়।

এর তৃতীয় সম্মেলন

এই তৃতীয় সম্মেলন ২১ থেকে ২২শে নভেম্বর ২০২২ সালে জাপানের রাজধানী টোকিওতে হয়েছিল। এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে একটি সুস্থ ও স্থিতিস্থাপক সমাজ গঠনের জন্য ব্যবহার করা।

GPAI চতুর্থ সম্মেলন

এই চতুর্থ সম্মেলন ১২ থেকে ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৩-এ ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই চতুর্থ সম্মেলন নিয়েই আজকের এই পোস্ট। এই চতুর্থ সম্মেলনে যে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা নিচে উল্লেখ করা হল।

GPAI চতুর্থ সম্মেলনে আলোচনার বিষয় এবং ভারতের স্ট্যান্ড

এই সম্মেলনে ভারত দুটি দিকে AI ব্যবহারের উপর সহমতি নেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রথম, ভারত চাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার যেন কৃষি ক্ষেত্রে করা যায়। কারণ ভারতের বেশিরভাগ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে যেন সহযোগী রূপে কাজে লাগানো যায় সেই সম্পর্কে। 

ভারত উপরের দুই বিষয়েই সহমতি নিতে চায়, কারণ প্রথম যে সম্মেলন হয়েছিল তাতে স্বাস্থ্যসেবা, দ্বিতীয় সম্মেলনে জলবায়ু ক্ষেত্রে, এবং তৃতীয় সম্মেলনে স্থিতিস্থাপক সমাজ গঠনের উপর চর্চা হয়েছিল।

AI ব্যবহার নিয়ে অন্যান্য সম্মেলন

:: বন্ধুরা, কিছুদিন আগে আমি একটি পোস্টে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তরফ থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের ওপর তৈরি করা আইন সম্পর্কে বলেছিলাম । যেখানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে, এবং কোন কোন ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার হবে না সে সম্পর্কে একটি বিল পাস করা হয়েছিল।

:: আবার কিছুদিন আগেই ইউনাইটেড কিংডমে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার নিয়ে bletchley declaration সাইন হয়। bletchley ইউনাইটেড কিংডমের একটি জায়গার নাম , বিশেষত একটি পার্কের নাম। bletchley সম্মেলনে ২৯ টি দেশ উপস্থিত হয়েছিল, যার মধ্যে ভারতও ছিল। যেখানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের রিস্ক অর্থাৎ ঝুঁকিকে কমানো।

:: তাছাড়া আমেরিকাতেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। যেখানে বলা হয় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে ভুল তথ্য অর্থাৎ ফেক ইনফরমেশন যাতে ছড়ানো না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

Conclusion

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ভালো ব্যবহারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই এর খারাপ ব্যবহারকে রোধ করার জন্য এবং মানুষের প্রাইভেসিকে প্রটেক্ট করার জন্য GPAI খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

FAQ

GPAI বলতে কী বোঝায়?

GPAI এর ফুল ফর্ম হল “গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স”। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার বিধি নিয়ে যে গ্লোবাল সংগঠন, তাই হল GPAI.

GPAI প্রথম সম্মেলন কবে ও কোথায় হয়েছিল?

GPAI এর প্রথম সম্মেলন ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে, কানাডার মন্ট্রিলে হয়েছিল।

GPAI এর বর্তমান সদস্য দেশের সংখ্যা কত?

GPAI এর বর্তমান সদস্য দেশের সংখ্যা হল ২৯টি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *