ভারতীয় বৈজ্ঞানিকদের দ্বারা বিশ্বের সর্বপ্রথম র‍্যাপিড রেসপন্স ডিজাস্টার হসপিটাল বা পোর্টেবল হসপিটাল তৈরি করা হয়েছে। ৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে যেকোনো ধরনের অপারেশন সম্পন্ন করার জন্য এই র‍্যাপিড ডিজাস্টার হসপিটাল তৈরি হয়ে যায়।

Photo by Pexels.com

কেন এই পোর্টেবল হসপিটাল

বিশেষত যে সমস্ত জায়গায় কোন বিপদ এসেছে, বন্যা হয়েছে, ভূমিকম্প হয়েছে, সুনামি বা যেকোনো ছোটো বা বড়ো সমস্যা হয়েছে, বিশেষত আমাদের দেশের মধ্যে অথবা বাইরে অন্য কোন দেশে। যাতে সে সমস্ত জায়গায় মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোভাইড করে আপদকালীন পরিস্থিতিকে কাটিয়ে তোলা যায়, তার জন্যই এই পোর্টেবল হসপিটাল।

বিশেষত যে আরোগ্য মিত্র কিউব বানানো হয়েছে, তার মধ্যেই এমন এক ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে , সেটির মধ্য পাওয়া যাবে এই পোর্টেবল হসপিটাল, অর্থাৎ নিয়ে চলাফেরা করা যাবে এমন এক ধরনের হসপিটাল। এই পোর্টেবল হসপিটাল এর মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০০ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসা প্রদান করা যাবে।

পোর্টেবল হসপিটালে কি কি চিকিৎসা পাওয়া যাবে

এই পোর্টেবল হসপিটালের মাধ্যমে যে যে চিকিৎসা প্রদান করা যাবে সেগুলি হল। বন্দুকের দ্বারা বুলেট গ্রস্থ হয়েছে এমন ৪০ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসা করা যাবে। অত্যাধিক পরিমাণে রক্তপাত ঘটছে এমন ২৫ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে। আবার কেউ কোন কারণবশত আগুন গ্রস্ত হয়েছে অর্থাৎ আগুনের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইরকম ২৫ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসা প্রদান করা যাবে। এমনকি মাথা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বা মাথাই জোর আঘাত লেগেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্য ১০ জনকে চিকিৎসা প্রদান করা যাবে। এছাড়া চেস্ট এবং যে কোন জায়গার হাড় বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে সমস্ত ব্যক্তিদের কেউ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এর মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও আরো অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যার ক্ষেত্রেও এই পোর্টেবল হসপিটাল বিশেষ সাহায্যকারী হবে আপতকালীন পরিস্থিতিতে।

এই ডিজাস্টার হসপিটালটিকে হেলিকপ্টার এর মাধ্যমেও এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা যাবে। এমনকি ড্রোনের মাধ্যমেও এই পোর্টেবল হসপিটাল কে স্থানান্তরিত করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরোগ্য মিত্র কিউব

আরোগ্য মিত্র কিউব হল একেকটি সরঞ্জামের ডাব্বা। যে আরোগ্য মিত্র কিউব রয়েছে । তার মধ্যে ৩৬ টি কিউব রয়েছে, এবং বারোটি করে কিউব সংযুক্ত একটি একটি প্যাকেজ। অর্থাৎ একটি প্যাকেজে ১২ কিউব সুতরাং তিনটি প্যাকেজে ১২×৩ =৩৬ টি কিউব । যে গুলির মধ্য বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল টুলস বা কিটস বা সরঞ্জাম গুলি রাখা হয়। এই আরোগ্য মিত্র কিউব প্রজেক্ট BHISHM বা Bharat health initiative for Sahyog hita and maitri এর আন্ডারে তৈরি করা হবে।

কিউবগুলিতে কি কি জিনিস থাকবে

এই পোর্টেবল হসপিটাল এর মধ্যে যে যে সুবিধা গুলো থাকবে সেগুলি হল অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটার, ছোটো আই.সি.ইউ, ভেন্টিলেটর, ব্লাড টেস্ট টুলস বা ইকুইপমেন্ট, ডিজিটাল ইমেজিং রেডিও বায়োগ্রাফি মেশিন, এক্স-রে মেশিন, স্মল রিফ্রেজারেটর, আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন, ডিফাইব্রেলেটর, পেশেন্টদের জন্য পানীয় জল ও খাবার, পাওয়ার জেনারেটার সোলার ইলেকট্রিসিটি এবং আরো অনেক কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

প্রজেক্টের প্রেক্ষাপট

এই প্রজেক্টের অ্যানাউন্সমেন্ট ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করেছিলেন। এবং ওই সময় তিনি মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্সকে বলেন, এই প্রজেক্ট এর উপরে কাজ করার জন্য টিম গঠন করতে এবং কাজ শুরু করতে।

এয়ার ভায়েন্স মার্শাল তন্ময় রায়কে এই প্রজেক্টটির প্রধান বানানো হয়। উনি পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বলেন যে এই ধরনের প্রজেক্ট বানানো হচ্ছে।

পরবর্তীকালে আগস্ট, ২০২৩ শে গুজরাটের গান্ধীনগরে G২০ এর যে সম্মেলন হয়। সেখানে পুনরায় এ বিষয়ে উপস্থাপন করা হয় যে র‍্যাপিড রেসপন্স ডিজাস্টার হসপিটাল বা পোর্টেবল হসপিটাল নামে এই ধরনের একটি টেকনোলজি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে ৩৬ টি কিউব থাকবে এবং এই সরঞ্জাম ও এই, এই সুবিধা গুলি থাকবে।

এই পোর্টেবল হসপিটাল নামে টেকনোলজি মায়ানমারকে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ইমারজেন্সি পরিস্থিতিতে প্রদান করা হয়। এমনকি আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে এই আরোগ্য মিত্র কিউবগুলোতে আয়ুর্বেদিক মেডিসিন এবং সরঞ্জাম গুলো থাকবে। মায়ানমারকে একটি পোর্টেবল হসপিটাল প্রদান করা হয়েছেই তো বটে, আবার শ্রীলঙ্কাকেও একটি প্রদান করা হয়েছে এই র‍্যাপিড রেসপন্স ডিজাস্টার হসপিটাল।

আরোগ্য মিত্র কিউবের বৈশিষ্ট্য

এই পোর্টেবল হসপিটালে যে কিউব গুলো রয়েছে, সেগুলির প্রত্যেকটির ওজন প্রায় ২০ কেজির মতো করে। এবং টোটাল ৩৬ টি কিউবের ওজন প্রায় ৭৫০ কেজির মত হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে একটি কিউবের ওজন কুড়ি কেজি হওয়ায়, এটিকে খুব সহজেই হাতে করে ১ কিমি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যেতে পারে বলে সম্ভাবনা করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, যে সমস্ত সরঞ্জাম গুলি থাকবে সেগুলির সাহায্যে, খুব সহজেই এক ঘণ্টার মধ্যেই একটি হসপিটাল সেটআপ করা যাবে, এবং বিশেষত ৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই অপারেশন থিয়েটার তৈরি হয়ে যাবে।

এমনকি পুরো সিস্টেমকে চালানোর জন্য মোবাইল বা ট্যাবলেট অ্যাপ্লিকেশনও তৈরি করা হয়েছে। যেখানে কিউবে থাকা সমস্ত সরঞ্জামের ডিটেলস উল্লেখ থাকবে।

এই পোর্টেবল হসপিটাল বা আরোগ্য মিত্র কিউব তৈরি করা হয়েছে বিশেষত তাৎক্ষণিক কোন দুর্ঘটনা বা সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের উদ্দেশ্যে। এগুলিকে ধীরে ধীরে ভারতে অবস্থিত বিভিন্ন চেরিটেবিল সংস্থাগুলিকে বা আপদকালীন উদ্ধারকারী সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনের সাপেক্ষে প্রদান করা হবে, বলে এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে।

Conclusion

যেকোনো ধরনের আপদকালীন পরিস্থিতিতে বা তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজনে এই ধরনের হসপিটালের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এতে যেমন প্রায় সমস্ত ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি একে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

FAQ

বিশ্বের প্রথম পোর্টেবল হসপিটাল কোন দেশে চালু হয়?

বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম ভারতে পোর্টেবল হসপিটাল চালু করা হয়। এবং ২০২৩ সালের ২রা জানুয়ারিতে গরুগ্রামে সর্বপ্রথম প্রদর্শন করা হয়। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কাজের এনাউন্সমেন্ট করেছিলেন।

পোর্টেবল হসপিটাল কি?

এটি ৩৬ টি আরোগ্য মিত্র কিউব বা ডাব্বা সম্মিলিত একটি হসপিটাল। যে কিউব গুলিতে চিকিৎসার বিভিন্ন সামগ্রী থাকে। এবং এই পোর্টেবল হসপিটালকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা নিয়ে যাওয়া যায়।

কোন কোন দেশকে ভারত পোর্টেবল হসপিটাল দিয়েছি?

ভারত সর্বপ্রথম মায়ানমারকে এই পোর্টেবল হসপিটাল দিয়েছিল। এর পরবর্তীকালে শ্রীলঙ্কাকেও একটি প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *