ভারতের দ্রুত গতিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ এবং র‍্যাপিড অর্গানাইজেশনের প্রতি লক্ষ্য রেখে অল্টারনেটিভ মিনস অফ ট্রান্সপোর্টেশন বিকাশ করা সরকারের বিশেষ প্রায়োরিটি রয়েছে। সংগ্রহীত তথ্যের সাপেক্ষে, দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যক্তি ভারতের শহরগুলিতে থাকবে।

Photo by pexels.com

তাই এই ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাহিদা পূরণের জন্য “alternative and population friendly transport” এর প্রয়োজন হবে। যেখানে বর্তমান ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের উপর এমনিতেই খুবই প্রেসার রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘মেট্রো রেল নেটওয়ার্ক’ এই চাহিদা কে পূরণ করার জন্য খুবই ভালো একটি মাধ্যম হবে। সরকার মনে করেন এই চাহিদাকে পূরণ করার জন্য, প্রতিবছর ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার অ্যাডিশনাল মেট্রো লাইন স্থাপন করা একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে।

ভারতের কোন কোন শহরে মেট্রো পরিষেবা রয়েছে

এই কারণেই পুরো দেশের মধ্যে বিভিন্ন শহরেতে মেট্রো লাইন বিকাশ ঘটানো হচ্ছে। ভারতে প্রায় ১৫ টি শহরে সক্রিয় মেট্রো রেল সার্ভিসেস এবং অপারেশনাল মেট্রো ম্যাপ উপলব্ধ রয়েছে। এই মেট্রো রুটের মধ্যে কলকাতা, দিল্লী, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, আহমেদাবাদ, জয়পুর, গুরুগ্রাম, মুম্বাই, নয়ডা, কচি, লখনউ, নাগপুর, কানপুর, পুনে ইত্যাদি শহরগুলো সংযুক্ত রয়েছে।

ভারতের কোন কোন শহরে মেট্রো পরিষেবার কাজ চলছে

যেখানে প্রায় এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি মেট্রো প্রজেক্ট সরকারি ফাইলে লিপিবদ্ধ রয়েছে। বর্তমানে ভারতের যে, যে শহরগুলোতে মেট্রোরেলের কাজ চলছে সেগুলি হল পাটনা, ইন্দোর, সুরাট, নেভি মুম্বাই, আগ্রা, ভূপাল, এবং পুনে । যেখানে মিরাট, কটক, ভুবনেশ্বর, চন্ডিগড়, কোয়েম্বাটুর, মাধুরাই, এবং থানে এই সমস্ত শহরগুলোতেও মেট্রো লাইন স্থাপনের জন্য অনুমতি মিলে গিয়েছে। এই সমস্ত শহরগুলিতেও খুব জলদি মেট্রো প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে। যে প্রোজেক্টের নাম দেয়া হয়েছে ” tricity metro project “।

এই মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইউনিয়ন টেরিটরি চন্ডিগড়, হরিয়ানার পাঞ্চকুলা এবং পাঞ্জাবের মহালি শহরে উপস্থিত নতুন চন্ডিগড় সংযুক্ত হবে। ট্রাইসিটি মেট্রোর ডিটেলস প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করার জন্য, পাঞ্জাবের পক্ষ থেকে নিজের শেয়ারের ১.৩৭ কটি টাকা প্রদান করে, এর দুই সপ্তাহ পর হরিয়ানা সরকারও নিজের শেয়ারের অর্থ প্রদান করে যা পাঞ্জাবের সমতুল্য অর্থাৎ ১.৩৭ কোটি টাকা।

এই দুই রাজ্য থেকে অর্থ প্রদান করার পর এই ‘ ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্ট’ এর কাজ খুবই জলদি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজকে আপনারা এই ” tricity metro project ” সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

বন্ধুরা, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার পক্ষ থেকে নিজস্ব শেয়ারের অর্থ প্রদান করার পর “Rail India technical and economics service” অর্থাৎ RITESH তার এপিল ইন্সপেকশন রিপোর্ট UT administration কে সাবমিট করবে।

এরপর প্রথমে অল্টারনেটিভ এনালাইসিস রিপোর্ট অর্থাৎ AAR এবং পরে DPR ড্রাফ্ট তৈরি করা হবে। UT ADMINISTRATION এর সিনিয়র অফিসারের মতে, এই দুইটি কাজ আগের বছর অর্থাৎ 2024 সালের মার্চের মধ্যে কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খরচ

এইট ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্টের ওভারঅল টেন্টেটিভ খরচ প্রাই ১০,৫৭০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই টাকার মধ্যে ২০% পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার সরকারকে পেমেন্ট করতে হবে, যেখানে কেন্দ্র সরকার অর্থ পে করবে ২০% এবং বাকি ৬০% লেন্ডিং এজেন্সি অর্থাৎ লোন দিয়ে থাকে এমন কোম্পানিগুলি পে করবে।

এই বছরের জুলাই মাসে চন্ডিগড় অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের গাইডলাইন অনুযায়ী মেট্রো রেলের জন্য AAR ও DPR প্রিপারেশনে সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের অর্থাৎ পাঞ্জাব এবং হরিয়ানাকে যুক্ত করবে। বিশেষত ১৮ই জুলাই ২৩ জন মেম্বারের সদস্য বিশিষ্ট “unified metro transportation authority” বা UMTA এর একটি মিটিংয়ে “tricity metro project” কে এপ্রুভড করা হয়েছিল।

কত কিলোমিটার কাজ হবে

বানুয়ারি পুরোহিতের নেতৃত্বে UMTA ওই মিটিংয়ে, UMTA বিভিন্ন সদস্যরা ছাড়াও পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চিফ সেক্রেটারিও উপস্থিত ছিল। মিটিং এর প্রথম ধাপের আলোচনায় প্রজেক্ট এর কাজ ৬৬ কিলোমিটার থেকে ৭৭ কিলোমিটার করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে নতুন চন্ডিগড় এর পারল থেকে কাজ শুরু হবে এবং সেক্টর টুয়েন্টির পাঞ্চকুলা এক্সটেনশনে শেষ হবে।

যেখানে ১১ কিলোমিটারকে সংযুক্ত করা হয়েছিল তার মধ্যে ৬ কিলোমিটার চন্ডিগড়ের পারুলের শুরুতেই যুক্ত হয়েছে, এবং বাকি পাঁচ কিলোমিটারকে পাঞ্চকুলা ISBT থেকে সেক্টর টুয়েন্টির পাঞ্চকুলা এক্সটেনশন পর্যন্ত যুক্ত করা হয়েছে। এই যে পাঁচ কিলোমিটার, এটি পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা সরকারের সাজেশন অনুযায়ী যুক্ত করা হয়েছে। কেননা এটি আলোচনার সাপেক্ষে, দ্বিতীয় দফার কাজের অংশ ছিল।

কাজের রুট

প্রথম দফার কাজ ২০২৭ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই “ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্ট” তিনটি রুটের মাধ্যমের সম্পন্ন করা হবে। যেখানে প্রথম রুট পারল, সারাংপুর, পাঞ্চকুলা ISBT, পাঞ্চকুলা এক্সটেনশন পর্যন্ত হবে। যার টোটাল লেন্থ ২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত।

যেখানে দ্বিতীয় রুট রক গার্ডেন থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ও চন্ডিগড় এয়ারপোর্ট হয়ে, ISBT জিরাকপুর পর্যন্ত হবে। এই রুটটির টোটাল লেন্থ হবে ৩৫ কিলোমিটার।

এবং তৃতীয় রুট গ্রাইন মার্কেট চক এর সেক্টর ৩৯ থেকে ট্রান্সপোর্ট চক এর সেক্টর ২৬ পর্যন্ত হবে। এই তৃতীয় রুটের লেন্থ হবে ১৩ কিলোমিটার।

যেখানে প্রথম দফার কাজের ৭৭ কিলোমিটার এর মধ্যে, ৩৫ কিলোমিটার চন্ডিগড়ে, ১১ কিলোমিটার পাঞ্চকুলাতে, এবং ৩১ কিলোমিটার মোহালি যা নিউ চন্ডিগড়েতে রয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, RITES প্রজেক্টের জন্য নির্ধারিত টাকা থেকে, আনুমানিক ৬.৫৪ কোটি টাকা খরচ করে AAR এবং DPR তৈরি করবে।

প্রজেক্ট পাশের প্রেক্ষাপট

“Tricity Metro Project” সম্পর্কে ১৫ সাল আগে বিচার করা হয়েছিল। কিন্তু খুবই লম্বা সময় পর এই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা সরকার এবং চন্ডিগড় অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মিলে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন।

২০০৮ সালে ‘ মিনিস্ট্রি অফ আরবান ডেভেলপমেন্ট ‘ চন্ডিগড়ের জন্য মেট্রোকে এপ্রুভড করে দিয়েছিল। এরপর ২০০৯ সালে RITES কম্প্রিহেনসিভ মবিলিটি প্ল্যানটিকে UT অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে সাবমিট করে।

২০১০ এ UT Administration এটিকে DMRC কে হ্যান্ডওভার করে। কিন্তু কারণবশত ২০১৭ সালে, এই মেট্রো প্রজেক্টেকে ট্রাইসিটির জন্য বাতিল করে দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৯ UT এই প্রজেক্টের জন্য রিভাইজড কোয়াড্রেশন কমিটি গঠন করে, এরপর ২০২২ সালে রাইটস কোম্পানি ‘কম্প্রিহেনসিভ মবিলিটিভ প্ল্যান’ এর ড্রাফট সাবমিট করে। এরপর এই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে UT পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা সরকারের কাছ থেকে সাজেশন চাই।

এরপর ১৬ মার্চ ২০২৩ এ, UT administration এর আলোচনা সভায় উপস্থিত থেকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা সরকার এর অনুমতি দেয়।

Tricity Metro Project এর সুবিধা

বন্ধুরা, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রোডের ট্রাফিক সিস্টেমকে আরও অ্যাডভান্স করার জন্য নানান পরিকল্পনা চলছে। যার জন্য নানান ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার develop করা হচ্ছে। অপরদিকে বিভিন্ন বড় বড় শহরে ট্রাফিক কে আরো উন্নত করার জন্য, এবং শহরকে কিছুটা পলিউশন মুক্ত করার জন্য মেট্রো রেল প্রজেক্ট এর উপর কাজ চলছে। এই লিস্টের মধ্যে চন্ডিগড় সংযুক্ত হয়ে গিয়েছে।

চন্ডিগড় সমেত ট্রাইসিটিগুলিতে দিন দিন ট্রাফিক বাড়ার কারণে, ট্রাফিক প্রেসারকে কন্ট্রোল করার জন্য রেল ইন্ডিয়া টেকনিকেল এন্ড ইকোনমিক সার্ভিস বা RITES একটি কম্প্রিহেনসিভ মবিলিটি প্ল্যান (CMP) বানিয়েছিল। যেখানে মেট্রো থেকে শুরু করে ফ্লাইওভার, আন্ডার পাস তৈরিতে, সাইকেল ট্রাক্স, বাসস্ট্যান্ড এবং মাল্টি পার্কিং সমেত আরো অন্যান্য সাজেশন দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইসিটি মেট্রো বাস টার্মিনাল, এয়ারপোর্ট, রোড লিঙ্কস এবং ডিপোটসের সাথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা সমন্বয় করবে। এবং এই সমস্ত শহরগুলিতে বসবাসকারী মানুষের অনেক সুবিধা হবে। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর রক গার্ডেন থেকে ISBT জিরাকপুর পর্যন্ত , চন্ডিগড় এয়ারপোর্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া গুলি থেকে চন্ডিগড়ে বসবাসকারী মানুষদের নানান ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। এবং সেখানকার মানুষেরা ট্রাফিক ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত হয়ে খুব সহজেই চন্ডিগড় এয়ারপোর্টে পৌঁছে যাবে।

বেশিরভাগ কমার্শিয়াল এবং রেসিডেন্টিয়াল এলাকার যেমন, সেক্টর – ১১, ১৪, ১৫ ,১৭, ১৮ এবং ২২ ট্রাফিক সমস্যা অনেকটাই ঠিক হয়ে যাবে।

বন্ধুরা, চন্ডিগড়, পঞ্চকুলা এবং মোহালিতে বাঁড়া ট্রাফিক সমস্যাকে কমাতে, এই ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্ট একটি মেজার ভূমিকা পালন করবে। RITES তরফ থেকে CMP অ্যাপ্রুভাল পেয়ে পাওয়ার পর এই প্রজেক্ট প্রথম ধাপ জয় করে ফেলেছিল। এরপর পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার তরফ থেকে অ্যাপ্রুভাল ও তাদের শেয়ারের অর্থ প্রদানের পর এই প্রজেক্ট দ্বিতীয় ধাপও জয় করে ফেলেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রজেক্ট এর DPR তৈরি হয়ে গেলে, এর কাজ আরো অনেকটা এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হয়।

Conclusion

মেট্রো প্রজেক্ট সত্যিকার অর্থেই একটি ব্যয়বহুল প্রজেক্ট। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যাতায়াত সমস্যার সমাধানের জন্য মেট্রো প্রজেক্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যা রোডে ভিড় কমাবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে নর্মাল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

FAQ

ভারত সরকার প্রতিবছর কত কিলোমিটার করে মেট্রো প্রজেক্ট করার কথা ভাবেন

জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির কারণে মানুষ যাতে যাতায়াতের সমস্যায় না পড়ে, তার জন্য ভারতের বর্তমান সরকার প্রতিবছর প্রায় ৬০০ কিলোমিটার করে মেট্রো প্রজেক্ট করার কথা ভাবেন।

ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্ট কি

ভারতের পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার বিভিন্ন শহরগুলিকে মেট্রো যোগাযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়ায় হল ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্ট।

ট্রাইসিটি মেট্রো প্রজেক্টে কত টাকা খরচ হতে পারে?

ভারতীয় রেল ডিপার্টমেন্টের ধারণা অনুযায়ী প্রায় ১০৫৭০ কোটি টাকার মতো খরচ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *