আপনারা অনেকেই জানেন গবেষণার জন্য বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন সময় নানান ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে থাকে। যেগুলির মাধ্যমে পাওয়া তথ্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে লেগে থাকে।

Image by isro.gov.in

ভারত এর আগে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩ নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছিল। সোমবার অর্থাৎ ০১/০১/২০২৪ তারিখ, বিশেষত সকাল ৯টার দিকে ‘ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা’ বা ISRO আবার একটি কৃত্রিম উপগ্রহকে মহাকাশে প্রেরণ করল। এই কৃত্রিম উপগ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে Xposat অর্থাৎ X-ray Polarimeter Satellite .

Xposat স্যাটেলাইটটিকে অন্ধ্রপ্রদেশের ‘সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার’ থেকে লাঞ্চ করা হয়েছে PSLV-C৫৮ রকেট লাঞ্চারের মাধ্যমে । ৪৬৯ কেজির ওজনের Xposat স্যাটেলাইটটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে। মিসাইলটি লঞ্চ করার ২২ মিনিট পর পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরের অরবিটে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই স্যাটেলাইটটিকে তৈরি করতে ইসরোর বৈজ্ঞানিকেরা প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছিল। এই ধরনের মিসাইল তৈরি করা খুবই কষ্টের। তাই আমেরিকার পর তেমন কেউ এই ধরনের মিসাইল মহাকাশে পাঠায়নি। এবং ভারত দ্বিতীয়তম দেশ হিসেবে এই X-ray Polarimeter Satellite লাঞ্চ করল।

Xposat স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকেরা একদিকে যেমন জানতে চাই মহাজাগতিক বস্তুগুলি সৃষ্টি কিভাবে হয়েছিল, সৃষ্টির সময় অবস্থা কিরকম ছিল। অপরদিকে যখন এই মহাজাগতিক বস্তুগুলি ধ্বংস হয় তখন তার দৃশ কিরকম হয়। এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে প্রায় ৫ বছর পর্যন্ত ক্রিয়াকলাপ করতে সক্ষম হবে।

দেখুন PSLV-C58 লঞ্চারের মাধ্যমে রকেটটি লঞ্চ করার পর পৃথিবী থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে Xposat স্যাটেলাইটকে লঞ্চ করে। এরপর PSLV-C৫৮ এর চতুর্থ স্টেজ নিচে আসতে থাকে, নিচে আসার সময় PSLV-C58 এর চতুর্থ স্টেজকে দুইবার রিস্টার্ট করা হয় যাতে এর গতিবেগ কমানো যায়। এবং যাতে পৃথিবী থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে POEM-3 কে ছাড়া যায়। এবং এই POEM-3 এক্সপেরিমেন্টে ১০টি পে-লোড এখানে রিলিজ করা হয়।

Xposat এর অংশ 

Xposat স্যাটেলাইটের দুটি অংশ রয়েছে। একটি হলো Polix অর্থাৎ polarimeter instrument in x-ray. এবং অপরটি হল  espect অর্থাৎ x-ray spectroscopy in timing. 

এখানে Polix অংশটিকে রামমোহন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৈরি করা হয়েছে। এবং espect অংশটিকে বানিয়েছে স্পেস অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপ  অফ URSC.  ব্ল্যাক হোল ভেদ হয়ে যে রশ্মী নির্গত হয়ে থাকে, সেই রশ্মীকে অবজার্ভ করে গবেষণা করা এই অংশ দুটির কাজ।

POEM কি 

POEM-3 এর সম্পূর্ণ অর্থ হলো  ‘PSLV orbit experimental module-3’ । এটি একটি মানুষ বিহীন স্পেস সেন্টার। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সেন্টারে মানুষ থাকে এবং মানুষ যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু POEM-3 তে মানুষের পরিবর্তে দশটি পেলোডকে লঞ্চ করা হয়েছে। 

এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যে পেলড বা স্যাটেলাইট তা হল WESAT অর্থাৎ ‘women engineered satellite’. এই স্যাটেলাইটটি তৈরি হয়েছে ‘LBS institute of technology for women’ ইউনিভার্সিটিতে। অর্থাৎ এই স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ মহিলা শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে। ইসরো ছাড়াও আরও অনেক টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং গবেষণা সংস্থা দ্বারা বিভিন্ন পেলোড বা স্যাটেলাইট গুলিকে তৈরি করা হয়েছিল।

মিশনের লক্ষ্য

ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে গবেষণা

ব্ল্যাক হোল ( what is a black hole ) মহাকাশে এমন একটি জায়গা, যেখানে কোন এনার্জি বা রশ্মি প্রবেশ করে, তাহলে ব্ল্যাক হোল থেকে ওই রশ্মি বা এনার্জি আর বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না।

মানুষের যেমন মৃত্যু রয়েছে, তেমনি তারকাও (Stars) মৃত্যু বা ধ্বংস হয়ে থাকে। যখন কোন তারকা (star) মৃত্যু বা ডেড হয়, বা যখন সেখানে কোন আর এনার্জি থাকে না, এবং যখন সেখানকার ভলিউম শূন্য হয়ে যায়, বিশেষত তখনই ব্ল্যাক হোল লক্ষ করা যায়।

ইসরো যে পোলার স্যাটেলাইটটি পাঠিয়েছে তার কাজ হল ব্ল্যাক হোল কিভাবে তৈরি হচ্ছে অর্থাৎ ব্ল্যাক হোল তৈরির উৎস কে চিহ্নিত করা। এবং সেখানকার ম্যাগনেটিক ফিল্ড কি অবস্থায় রয়েছে তা অনুধাবন করা। যার ফলে ব্ল্যাক হোলগুলি কত মিলিয়ন বা বিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়েছিল তা জানাতে পারে। সেই সঙ্গে ব্ল্যাক কত বছর পর্যন্ত থাকবে তাও জানাতে পারবে।

এমনকি ব্ল্যাক হোলগুলো কেন হচ্ছে? কিভাবে হচ্ছে? এবং যখন সেগুলো শেষ হয়ে যাবি তখন সৌরজগতে তার প্রভাব কি পড়বে সেই সম্পর্কে তথ্য দেবে।

এক্সরে উৎসের গতিবিধি নিয়ে গবেষণা

ব্ল্যাক হোলের ভেতর আলোর বিচ্যুতি বা রশ্মি প্রবেশ করলে তা কি ঘটে, রশ্মির প্রভাবে ব্ল্যাক হোলের ভেতর কি রকম দেখায়, এবং ব্ল্যাক হোলের ভেতর দিয়ে রশ্মি ভেদ হয়ে বেরিয়ে আসলে সেই রশ্মীর প্রকৃতি কিরূপ হয় তা নিয়ে গবেষণা করা।

স্যাটেলাইটটি কোথায় স্থাপন করা হবে

ইসরো যে Xposat নামক স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠিয়েছে, এই স্যাটেলাইট থেকে পৃথিবীর নিম্ন বৃত্তাকার কক্ষপথে স্থাপন করা হবে।

:: ইসরোর চেয়ারম্যান সোমনাথ বলেন এই বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মঙ্গল গ্রহে ”মঙ্গলযান” স্যাটেলাইটকে লঞ্চ করা হবে। তাই ভারত অপেক্ষা করছে এই বিশাল সফলতার জন্য। এছাড়া এই সালেই PSLV , GSLV, SSLV রকেট লঞ্চ করা হবে। এগুলি ছাড়াও আরো কিছু কিছু স্যাটেলাইট মহাকাশে লঞ্চ করা হবে, সেইসঙ্গে সমুদ্র গবেষণার কাজকে আরও সক্রিয় করা হবে। যা ভারতের বৈজ্ঞানিক এবং গবেষণা সংস্থাটি আরো উন্নত করে তুলবে।

Conclusion

এটি এটি সৌরজগতের ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে যেমন তথ্য প্রদান করবে, তেমনি মহাকাশ গবেষণার কাজকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর সঙ্গে এটি ভারতের জন্য আরও একটি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বড় সফলতা।

FAQ

Xposat Satellite কি

এটি একটি কৃত্রিম উপগ্রহ, যা মূলত ব্ল্যাক হোলের গবেষণার জন্য মহাকাশে লঞ্চ করা হয়।

Xposat Satellite কবে লাঞ্চ করা হয়?

১ম জানুয়ারি, ২০২৪ ( সোমবার ) সালে Xposat Satellite টি মহাকাশের লঞ্চ করা হয়।

Xposat স্যাটেলাইট কোথা থেকে লঞ্চ করা হয়েছিল?

অন্ধ্রপ্রদেশের ‘সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার’ থেকে লাঞ্চ করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *