আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এমন একটি জিনিস, যা যেকোনো ধরনের কাজকে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দেয়। যেখানে মানুষের সময় এবং শ্রম উভয়কেই অনেকটা সাশ্রয় করে থাকে। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শিক্ষা ক্ষেত্র (artificial intelligence in education) থেকে শুরু করে কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক ব্যবহার (artificial intelligence in healthcare) হচ্ছে। কিন্তু আজকাল কিছু ব্যাক্তি এর অপব্যবহার করে চলছে।

Image by Pexels.com

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তরফ থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উপরে আইন আনা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার হচ্ছে, সেই সঙ্গে এর ব্যবহারকে নিয়েও প্রায় প্রতিটি দেশেই প্রতিবাদ চলছে। কারণ আপনারা সকলেই জানেন, যে কোন জিনিস ব্যাবহারের  যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি রয়েছে খারাপ দিক। আপনারা কয়েকদিন লক্ষ্য করলে দেখবেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের ফেক ভিডিও এবং ফটো খুবই ভাইরাল হচ্ছে। যে সমস্ত ব্যক্তিদেরকে নিয়ে ফেক ভিডিও এবং ফেক ফটো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে তারা অভিযোগ করছে । কারণ ওই সমস্ত ফেক ফটো এবং ভিডিও গুলোর খারাপ ব্যবহার হচ্ছে।

ওই সমস্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে, অনেক দিন এবং অনেক প্রচেষ্টার পর ইউরোপ ইউনিয়নে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের খারাপ ব্যবহারের উপর একটি Bill পাস হয়। এই বিলটির পক্ষে প্রায় সকল সদস্যই সহমতি জানাই। এই বিলকে একটি ঐতিহাসিক বিল হিসেবেও আখ্যা দেওয়া হয়।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রের মধ্য প্রায় ৩৭ ঘন্টা আলোচনার মাধ্যমে এই AI ব্যবহারের আইনটি তৈরি করা হয়।

এই আইনের মাধ্যমে স্থির করা হয়, কোন ব্যক্তির যদি কোন ফেক ফটো বা ভিডিও সামনে আসে, তাহলে ওই ব্যক্তি কিভাবে  বিষয়টিকে নিয়ে কমপ্লেন করবে। এবং কোনো ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি কিভাবে এই বিষয়টিকে হ্যান্ডেল করবে। কোন কোন ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে।

দেখুন, যাতে ব্যক্তিদের ফেক ফটো বা ভিডিও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি করে প্রচার করা না যায়, তার জন্য facial recognisation technology ব্যবহারের উপর নিষিদ্ধকরণ করা হয়। বিশেষ করে যাতে এর খারাপ ব্যবহার না হয়। এবং আইনে আরো বলা হয়েছে, যদি কোন কোম্পানি এই আইনকে ভঙ্গ করে তাহলে তার ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

যেখানে সাধারণ মানুষের কোন বিপদ আশার সম্ভাবনা থাকবে, সেখানে শুধুমাত্র সরকার real time biomatric surveillance ব্যবহার করতে পারবে ।

আলোচনায় বলা হয়, ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলিতে যে সমস্ত ব্যক্তি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কোন কাজকর্ম করছে তাদের জন্য সুবিধা হবে। কারণ, যেহেতু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে নিয়ে কোন আইন বা রুলস এর আগে তৈরি হয়নি, তাই তারাও AI ব্যবহার নিয়ে চিন্তিত ছিল, যে তাদের কোম্পানির ওপরে কোন ব্যান আসবে না তো। এই আইনের পর তাদের আর কোন চিন্তা থাকবে না, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার নিয়ে। তারা জানতে পেরে যাবে, যে কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যবহার করা যাবে না।

ইউরোপিয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট Ursula von der leyen বলেন – টেকনোলজির বিকাশ হওয়া কোন খারাপ কাজ নয়, তবে এর ব্যবহারের প্রতি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে, যার দ্বারা মানুষের সেফটি এবং অধিকারের যেন কোন ক্ষতি না হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার নিয়ে যে প্রতিবন্ধী কথার কথা বলা হয়েছে সেগুলিকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম very high risky category, দ্বিতীয় High risky category, তৃতীয় Medium risky category, চতুর্থ Low risky category সমুহ।

বিভিন্ন রিস্কি ক্যাটাগরি সমূহের আলোচনা

Very high risky category

এই ক্যাটাগরির বিষয়গুলি হল খুবই high risky. যেগুলিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যেমন – facial recognisation কে Mass-Scale এর জন্য ব্যবহার করা যাবে না। বিহেভিয়ারাল কন্ট্রোল এপ্লিকেশন গুলোতে AI ব্যবহার ব্যান থাকবে।

High risky category

এই ক্যাটাগরির বিষয়গুলিতে AI ব্যবহারের জন্য কোম্পানিকে সার্টিফিকেসন নিতে হবে । যেমন- গাড়ি কম্পানিগুলি সেল্ফ ড্রাইভিং এর ক্ষেত্রে AI ব্যবহার করতে পারবে না। তবে যদি কোন কোম্পানি ব্যবহার করতে চাই, তাহলে সেই কোম্পানিকে সার্টিফিকেশন নিতে হবে। যার মাধ্যমে জনগণদেরকে বোঝাতে হবে, তাদের কাছে কি টেকনিক রয়েছে যার দ্বারা তারা সেলফি ড্রাইভিং এ AI ব্যবহার করছে।

Medium risky category

এই ক্যাটাগরির বিষয়গুলির ক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে বিশেষ বাধানিষেধ ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে। যেমন – chatbots .

chatbots হচ্ছে যেখানে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায়। তবে এখানেও একটি নিয়ম রয়েছে, যেখানে কোম্পানিকে ক্লিয়ার ভাবে জানতে হবে, যখন chatbots এর সঙ্গে চ্যাট হবে। যে এখন chatbots এর সঙ্গে কথা বলছেন, কোন মানুষের সঙ্গে নয়।

Low risky category

এই ক্যাটাগরির ক্ষেত্রগুলোতে AI ব্যবহারে কোন বাধা নিষেধ থাকবে না। তবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তরফ থেকে AI ব্যবহার নিয়ে যে রুলস তৈরি করা হবে সেটিকে মেনে চলতে হবে।

GDPR কি

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ব্যক্তিদের প্রাইভেসিকে নিয়ে এর আগেও একটি আইন তৈরি করেছিল, সেটি হল GDPR অর্থাৎ জেনারেল ডাটা প্রটেকশন রেগুলেশন। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদেরকে জানানোর প্রয়োজন হয়, তাদের তথ্য কোন কাজে ব্যবহার হতে পারে। এবং এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর প্রাইভেসির কোন সমস্যা হবে না তো।

:: যাইহোক, ২০২৪ সালের প্রথমদিকেই ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারের উপর এই আইনকে নিয়ে ভোটিং হবে। এবং ২০২৫ সাল থেকেই এই আইনটি খুব ভালোভাবে লাগু হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।

Conclusion

আজকাল মানুষ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অনেক খারাপ ব্যবহার করছে। তাই প্রত্যেকটি দেশের সরকারকেই প্রয়োজন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার নিয়ে সতর্ক হওয়া। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের প্রাইভেসির সম্পর্ক। তাই ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তরফ থেকে AI ব্যবহার নিয়ে খুব ভালো একটি পদক্ষেপ।

FAQ

বিশ্বের প্রথম AI ব্যবহার আইন কোনটি?

বিশ্বের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আইন হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের AI আইন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে AI আইনে কয়টি রিস্কি ক্যাটাগরির কথা বলা হয়েছে।

চারটি রিস্কি ক্যাটাগরির কথা বলা হয়েছে। সেগুলি হল very high risky, high risky, medium risk এবং Low risky ক্যাটাগরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *